আট কোচিং সেন্টার বন্ধ করে দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এবং কদমতলী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮ কোচিং সেন্টার বন্ধ করে দিয়েছে র‌্যাবের ভ্রমাম্যমাণ আদালত। এসময় ওই প্রতিষ্ঠানগুলোকে  ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টা থেকে বিকাল পর্যন্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গাউছুল আজমের নেতৃত্বে র‌্যাব-১০ এর একটি দল প্রিভেইল কোচিং সেন্টার, সমীকরণ কোচিং সেন্টার, চ্যালেজার  কোচিং সেন্টার, জেনুইন কোচিং সেন্টার, বেস্ট কোচিং সেন্টার, ফরমেট কমার্স কোচিং সেন্টার এবং এম আর কোচিং সেন্টারে অভিযান চালায়। র‌্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানানো হয়।

র‌্যাব-১০ এর উপ-অধিনায়ক মেজর আশরাফুল হক বলেন, সরকারি নির্দেশ অমান্য করে এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে কোচিং সেন্টার চালু রাখায় এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এসব কোচিং বন্ধের পাশাপাশি সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার থেকে সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া বাসায় কোচিং করানোয় যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে ঢাকা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে এসএসসি পরীক্ষার সাত দিন আগে থেকে পরীক্ষা শেষ হওয়া পর্যন্ত সারা দেশের সব ধরনের কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় সরকার। এই নির্দেশ অমান্যের জন্য এর আগে বেশ কয়েকটি কোচিং সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আরও পড়ুন: জাল সনদে চাকরি, শিক্ষক বরখাস্ত : বেসরকরি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় পাশ না করে জাল সনদে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া ডিগ্রী কলেজে প্রভাষক পদে চাকুরী করায় আতিকুর রহমান নামে কলেজের ইংরেজী বিষয়ের এক প্রভাষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার ওই কলেজের পরিচালনা কমিটির সভায় সীদ্ধান্তক্রমে তাকে চাকুরি হতে বরখাস্ত পত্র দেওয়া হয়। জানা যায়, ২০১২ সালের ১১ নবেম্বর রুহিয়া ডিগ্রী কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা (বিএম) বিভাগের ইংরেজী প্রভাষক পদে আতিকুর রহমান নিয়োগপ্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারী ১১ হাজার টাকা বেতন স্কেলে এমপিওভুক্ত হন এবং সরকারি অর্থ ভোগ করেন। পরবর্তীতে ২০১৫ সালের ১ জুলাই হতে উন্নীত স্কেলে ২২ হাজার ১শ’ ৮০ স্কেলে বেতন প্রাপ্ত হন। এদিকে ২০১৫ সালের ২০মে রুহিয়া ও নিরীক্ষা দপ্তরের যুগ্ম পরিচালক বিপুল চন্দ্র সরকার ও অডিটর মাহমুদুল হক ডিগ্রী কলেজ পরিদর্শন করেন। ওই নিরীক্ষায় কলেজের বিএম শাখার ইংরেজি প্রভাষক আতিকুর রহমানের দাখিলকৃত বেসরকরি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার সনদপত্র (৯ম বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা পাশের সন ২০০৯,বিষয়- ইংরেজী) জাল বলে ধরা পড়ে। অর্থাৎ আতিকুর রহমান নিজে পাশ না করে অন্য ব্যক্তির সনদপত্র সংগ্রহ করে জালিয়াতির মাধ্যমে চাকুরিতে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়। অথচ এমপিও ভুক্ত হওয়ার পর থেকে ডিসেম্বর ’২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রভাষক আতিকুর রহমান ৬৮ মাসে বেতন হিসেবে ১২ লক্ষ ২১ হাজার ২শ’ টাকা গ্রহণ করেন।

অডিটের ৩ বছর পর ২০১৮ সালের ২৬ নবেম্বর শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক প্রফেসর মো: সাজ্জাদ রশিদ স্বাক্ষরিত নিরীক্ষা প্রতিবেদন কলেজ অধ্যক্ষকে পাঠায়। ওই নিরীক্ষা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে কলেজ অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ বলেন, ইংরেজী প্রভাষক আতিকুর রহমানের নিবন্ধন সনদপত্রটি সঠিক নয় । ওই নিবন্ধন সনদটি অন্য কোন ব্যক্তির । এর প্রেক্ষিতে অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ গত ৩১ জানুয়ারি প্রভাষক আতিকুর রহমানকে “দাখিলকৃত বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা পাশের সনদপত্রটি আসলে কার তার ব্যাখ্যা চেয়ে ৭ দিনের মধ্যে জবাব দাখিলের জন্য কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করেন। ওই পত্রে বলা হয়, নিধার্রিত সময়ের মধ্যে জবাব দাখিল না করলে উত্থাপিত অভিযোগ সত্য বলে গণ্য হবে। গত শনিবার (০৯ ফেব্রুয়ারি’১৯) এর মধ্যে নোটিশের জবাব দেওয়ার শেষ দিন থাকলেও তিনি কোন জবাব দাখিল করেননি।

এ ঘটনায় সোমবার কলেজের পরিচালনা কমিটির জরুরী সভা আহবান করলে প্রভাষক আতিকুর রহমান জাল সনদের ব্যাপারে কোন জবাব দাখিল না করায় তাকে চাকুরি হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সেই সাথে ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারী হতে ’২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বেতন হিসেবে নেওয়া ১২ লক্ষ ২১ হাজার ২শ’ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে বলা হয়। এ ব্যাপারে কলেজ অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ বলেন, পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পত্রের প্রেক্ষিতে প্রভাষক আতিকুর রহমানের নিকট ব্যাখ্যা চেয়ে ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব দাখিলে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে চাকুরি হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার কাছে সরকারের বেতন হিসেবে প্রদানকৃত অর্থ ফেরত দিতে বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয় চাইলে তার বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা হতে পারে।এ বিষয়ে প্রভাষক আতিকুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Student BD © 2017